
আপডেট: শনিবার , ১৪ মার্চ, ২০২৬, ফয়সাল হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি
, সাপ্তাহিক শ্রীনগর দর্পন

সংগৃহীত ছবি
খরবটি সেয়ার করুনঃ
সুজলা-সুফলা, সবুজ-শ্যমলা এই ধরনীর মাঝে, যেখানে যাই যেদিকেই তাকাই দেখি কত কিছুই না আছে। চেয়ে চেয়ে রই আমি অবাক হই এই প্রকৃতি দেখে! কত সুন্দর করিয়া ধরনী বানাইছে প্রভু নিজেরি হাতে।"
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অবস্থিত আড়িয়াল বিল, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর বিল। সবুজ গালিচার ভাজে মোড়ানো সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি যেন এই বিলটি। ঋতু বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশে
যখন বসন্ত ঋতুতে বসন্তের দখিনা বাতাস ও উষ্ণতায় গাছে গাছে নতুন পাতা ও কুঁড়ি গজাতে শুরু করে তখন প্রকৃতি এক অপরুপ সৌন্দর্যে ফুটে ওঠে, চোখ ভেসে যায় দিক হতে দিগন্তে মুগ্ধ করে অন্তরাত্মাকে। ঠিক তখনই দৃষ্টিনন্দন অপরুপ সৌন্দর্যে সজ্জিত হয় মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিল। ধানের নতুন পাতা গজানোর পর বিল হয়ে ওঠে সবুজ গালিচার ন্যায়।
বর্ষার মৌসুম শেষে কৃষকেরা বিলের জমিতে ধান রোপণ করে জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে, সেই ধানের নতুন পাতা গজানোর পর পুরো বিল হয়ে ওঠে সবুজ প্রান্তরময়। পড়ন্ত বিকেলে মৃদু বাতাসের তালে, সুরেলা কণ্ঠে পাখিদের কিচিরমিচির প্রতিধ্বনি মুগ্ধ করে প্রকৃতি প্রেমিদের হৃদয়। আড়িয়াল বিলের এমন মনোরম দৃশ্য দেখতে অনেকে ছুটে আসে বিলের ধারে। কাঁদাময় জমির গা ঘেঁষে দু'পায়ের আইল দিয়ে হেঁটে বেড়ায় গ্রামের ছেলে-মেয়েরা। অনেকে স্মৃতির পাতায় রেখে দিতে ফ্রেমবন্দী করে রাখে সেই মুহূর্তগুলো। এই পরিবেশে ঘুরতে আসে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ।
কৃষক আরিফুর রহমান বলেন, বর্ষার মৌসুমে এই বিল পানিতে ডুবে যায়, এর পর যখন পানি কমতে থাকে তখন ধান রোপণের জন্য আমরা জমিকে উপযুক্ত করেতুলি। যখন শুরুতে ধান রোপণ করা হয় তখন তা দেখতে খুব একটা সুন্দর লাগে না, তবে কিছুদিন পরে যখন নতুন পাতা গজায় এবং তা ফুটে ওঠে তখন পুরো বিল হয়ে ওঠে সবুজে ঘেরা আর এই মনোরম দৃশ্য দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন এই বিলে, উপভোগ করেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
দর্শনার্থী তাইফুর রহমান বলেন, আড়িয়াল বিলের সৌন্দর্য সবসময়ই আমাকে মুগ্ধ করে। বর্ষার মৌসুমে বিলের চারিদিকে পানিতে টইটম্বুর থাকে, তখন শাপলা ফুলের সৌন্দর্য যেভাবে মুগ্ধ করে তেমনি বসন্ত মৌসুমে ধানের পাতা এই বিলের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করে। বিলের যেদিকে তাকাই সবুজে ঘেরা পরিবেশ, আবার পাখির কিচিরমিচির ধ্বনি, সন্ধ্যা বেলা সূর্য ডোবার দৃশ্য এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। আমি ও আমার পরিবার এই বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বছরে দুইবার আসি, বর্ষা মৌসুমে আর বসন্ত মৌসুমে। প্রাণ ভরে উপভোগ করি এই সময়গুলিকে।
ছোট্ট দর্শনার্থী আনিশা আক্তার বলেন, এই বিলটি অনেক সুন্দর। আমি আমার বাবার সাথে অনেক এসেছি এই বিলে, আমার অনেক ভালো লাগে। আমি বিলে এসে অনেক ঘুরি, ছবি তুলি, আনন্দ করি। বাবার সাথে বিলের মাঝে খালি পায়ে হেঁটে বেড়াই তখন আমার খুব ভালো লাগে। আমার বাবাও আমাকে নিয়ে এই মুহূর্তগুলো অনেক উপভোগ করেন।
বিলের জমির মালিকেরা বলেন, এই বিল থেকে বছরে অনেক ধান উৎপাদন করা হয়। সেই ধান থেকে কৃষকেরা নিজেদের বছরের খাবারের জন্য রেখে বাকিগুলো বিক্রি করে দেয়। আর এই বিলের ধান সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যায়। এই বিলে যদি ধান রোপণ করা না হতো তাহলে চালের দাম আরও অনেক বৃদ্ধি পেত এবং খাদ্যের অভাব অনুভব করা যেত।
(সম্পাদক)
ঠিকানাঃ
অস্থায়ী অফিসঃ দক্ষিণ মান্দ্রা ট্রান্সমিটার মোড়,
ভাগ্যকুল যুব সমাজকল্যাণ সংসদ – ভাগ্যকুল,শ্রীনগর